ভৌতিক গবেষণা পর্ব-৮

 “আসলে আমি তোমার খোঁজে বের হয়েছি।” এমাকে উদ্দেশ্য করে বললো লিন্ডো।

-আমার খোঁজে? কেন?
-আমাদের বাড়ির কেয়ারটেকার হোজেন চাচা বলেছে তুমি বলে এই গ্রামের সব খবর রাখো। তাই তোমার কাছ থেকে কিছু জানার ছিল আমার।
-হুম…
একটু থামলো এমা। তারপর বললো, “তোমার প্রশ্নগুলো কি স্পিরিট হাউস নিয়ে?”
হাসলো লিন্ডো। “ঠিক ধরেছো।”
সব বুঝে ফেলেছে এমন ভাব করে মাতা ঝাকালো এমা। “চলো বসে কথা বলি।”

ঘাসের উপর গোল হয়ে বসেছে পাঁচজন। এমাকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই খুঁজে পাওয়ায় লিন্ডো যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে।
গত রাতের পুরো ঘটনাটি খুলে বললো সে। নিজের লাথি খাওয়ার অংশটিও বাদ দিলো না। মিমো আমার নিকি কি ভেবে একে ওপরের দিকে তাকালো। চেহারার ভাব এমন যেন মুখে কেউ চা পাতা ঠেসে দিয়েছে। লিন্ডো দেখেও না দেখার ভান করলো। ধরে নিলো এই দুইজনের মাথায় গন্ডগোল আছে।

ভৌতিক গবেষণা পর্ব-৮

সব কিছু শুনে একটা দীর্ঘশাস ফেললো রিঙ্কা। “তার মানে তুমি বলতে চাইছো যে এতো বছর ধরে ঘটে যাওয়া কান্ডগুলো আসলে চোরের কারসাজি? বাড়ি ফাঁকা করার জন্য ভয় দেখিয়ে তাড়াচ্ছে যাতে ঝামেলা ছাড়া চুরি করতে পারে?” জিজ্ঞেস করলো সে।
হ্যা বোধক মাথা নাড়লো লিন্ডো। “অন্তত আমার তাই ধারণা।”

“আমি যতদূর জানি, মিলার এডওয়ার্ড বাড়িটা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে” বললো মিমো।
“কিন্তু আমি তো শুনেছি ডিউক স্বপরিবারে মারা যাই। তাহলে?”
নিকি নড়েচড়ে বসে বললো, “উত্তরাধিকার হতে কি আর পরিবার হওয়া লাগে নাকি? লাগে মিমোর মতো সর্বনাশা বুদ্ধি।”
মিমো নাক ভেচকিয়ে তাকালো নিকির দিকে। “তোমাকে আমি পরে দেখছি।” বিড়বিড়িয়ে বললো সে।
“কথাটা কিন্তু ভুল বলেনি নিকি। আর ফ্রি ফ্রি এতো বড় বাড়ি পাওয়ার ব্যাপারটা কে হাত ছাড়া করতে চাই বলো।”

মিমো একটু ভাবলো। “আমার কি মনে হয় জানো? এই মিসেস মিলারই সব করছে। প্রথমে নিজের স্বামীকে গুম করছে। এখন লোক লাগিয়েছে বাড়ির লুকানো সম্পত্তি পাওয়ার জন্য।”
“তার মানে কি আসলেই বাড়িতে গুপ্তধন আছে?” লিন্ডোর প্রশ্ন।
“আমার মনে হয়না। যদি সে আসলেই সম্পত্তির পিছে থাকে তাহলে বাংলোটা বিক্রি করতে যাবে কেনো? কিন্তু সত্যিই যদি চোর এসে থাকে তাহলে কিছু না কিছু তো আছেই।” বললো এমা। “সত্যি বলতে আমি ওই বাড়ির ইতিহাস তেমন একটা জানি না। তাই তোমাকে কোনো ইনফরমেশন দেয়ার আগে আমাকে একটু ঘাটাঘাটি করতে হবে।”

“আবার ঘাটাঘাটি?” একসাথে বলে উঠলো নিকি আর মিমো। ঘাটাঘাটি শব্দটি শুনে কেমন যেন নেদিয়ে গেলো দুজনে। পাঁচজনে ভাবনায় ডুবে গেলো।
“এখন আমি কি করবো তাহলে?”তাদের নীরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করলো লিন্ডো।

একটা নিঃশাস ছাড়লো এমা। “আমাকে দুদিন সময় দেও। দুদিন পর আমি তোমাকে সব তথ্য এনে দেয়ার চেষ্টা করবো। তবে আগেই বলে রাখছি, বেশি কিছু পাবো বলে মনে হয়না।”
-আমার তাতে কোনো সমস্যা নেই। আমার চিন্তা খালি চোর নিয়ে। আজকে রাতে এসে আবারো যদি ঝামেলা তৈরি করে তাহলে করবটা কি?
-সে তুমি চিন্তা করোনা। তোমার সাথে এখন লিলিপুট সন্ত্রাসীর পুরো দল আছে।
এই কথাটা শুনে লিন্ডো একটু স্বস্তি পেলো। কোনো কারণে এই ভাঁড়ের দলটার ওপর ওর বিশ্বাস চলে এসেছে।

“আমার একটা প্রশ্ন আছে তোমার কাছে।” মিমোকে উদ্দেশ্য করে বললো লিন্ডো।
-কি প্রশ্ন?
-নিকিকে আর কতক্ষন অভাবে বেঁধে রাখবে?
হাসলো মিমো। “এই আলসের ডিমটা আজকে এভাবেই বাঁধা থাকবে। ওর শাস্তি এটা।” রাগ হওয়ার ভান করলো সে।
নিকি মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে বললো, “হুহ! বল কি! আমি তাহলে খাবো কি করে? জানো না, আমার দিনে পাঁচ বেলা খাবার না খেলে ঘুম হয়না!”
নিকির কথা শুনে সবাই হোহো করে হেসে উঠলো।

লিন্ডো সময়টা ভালোই কাটলো লিলিপুট সন্ত্রাসীদের সাথে। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সাথে চমৎকার বন্ধুত্ব হয়ে গেছে লিন্ডোর। কেন যে মিস. সোয়া মিমোকে এক নম্বর সন্ত্রাসী বললো কে জানে। উল্টো মিমোর সাথে লিন্ডোর বেশ ভাব হলো। যাকে বলে ভাই বোনের ভাব। এক পর্যায় লিন্ডো তো ধরেই নিয়েছিল যে মিমো কোনোভাবে তার হারিয়ে যাওয়া বোন।

বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো লিন্ডোর। কি করবে? এতো চমৎকার বন্ধু। তাও আবার চারজনের মধ্যে তিনজন ভাঁড়ের চেয়ে কম নয়। এমন বন্ধু পেলে কি কেউ ছারে? বিশাল দরজা খোলার পর লিন্ডো ভেতরে ঢুকে দেখে রবিন আর মিস. সোয়া খেতে খেতে গল্প করছে। হাত মুখ ধুয়ে সে নিজেও আড্ডায় যোগ দিলো।

মিস. সোয়া লিন্ডোর হাতে কাটলেট ধরিয়ে দিয়ে বললো, “পেয়েছিলে এমাকে?”
-হুম… জঙ্গলের ট্রি হাউসে ঝুলে ঝুলে সার্কাস দেখাচ্ছিল ওরা।

-সার্কাস দেখাচ্ছিল? মানে?
-তোমার কথা মতো আমি প্রথমে জঙ্গলের দিকেই গিলতাম। কিছুদূর যাওয়ার পর শুনি কাছেই করা যেন তর্ক করছে। একটু খোঁজার পর চোখে পড়লো ওরা চারজন। একজন বানরের খাওয়া দেখছে, দুজন ঝুলন্ত মই ধরে ঝুলছে আর একজন নিচ থেকে ঝুলে থাকা দুজনকে ঠেলে উঠাচ্ছে….
চারজনের সাথে কিভাবে দেখা হয়েছিল তা খুলে বললো লিন্ডো।

ফিক করে হেসে দিলো রবিন, “লিলিপুট সন্ত্রাসী? এ কেমন নাম?”
ঠোঁট উল্টালো লিন্ডো। এই নাম রাখার কারণটা জিজ্ঞেস করা হয়নি।
“এই নামটা ওদের গ্রামের লোকরাই দিয়েছে।” বললো মিস. সোয়া।
“গ্রামের লোকরা? ওদের কি এতই সুনাম এ গ্রামে?” জিজ্ঞেস করলো রবিন।
-সুনাম নয়। দুর্নাম বল। ওদের এই নাম পাওয়ার পিছে অনেকগুলো ঘটনা আছে। শুনলে বলবে যে একেবারে উচিত নাম দেয়া হয়েছে। শুনতে চাও?
“গল্প!” চোখ চকচক করে উঠলো দুই ভাইয়ের। মাথা নেড়ে জানালো যে তারা শুনতে চাই।
-তাহলে ডিনারের পর চলো চিলেকোঠায়। ঠান্ডা বাতাসে বসে তোমাদের লিলিপুট সন্ত্রাসীর কান্ড-কারখানা শোনাবো।

Comments

Popular Posts