ভৌতিক গবেষনা পর্ব-১৫

 পর পর দুদিন জ্ঞান হারিয়েছে। তাও আবার অমূলক কারণে। তাই লজ্জিত মুখ নিয়ে সোফার এক কোনায় বসে আছে রবিন। হোজেনকে জনার্দনের পাশে শুয়ে রেখে এসেছে লিন্ডো। নিয়ন, নিকি আর মিমোকে বিদায় জানানোর পর সবকিছু শুনে গলা ফাটিয়ে হেসে চলেছে লিও।

“হাসবে না! একদমই না! সব দোষ তোমার।” বলে উঠলো লিন্ডো। “এবাবা! এখানে আমার দোষটা কোথায়? না আমি তোমাদের ভয় দেখিয়েছি। না আমি মিমো আর নিকিকে বানরের মতো জানালা বেয়ে চড়তে বলেছি। বরং তো ওরাই জোর করে উঠেছে।” হাসি থামিয়ে বললো লিও।

-তবুও সম্পূর্ণ দোষ তোমার। তুমি বাল্য বন্ধু, প্রানের বন্ধু বলে দের রাত আড্ডা দেও। দুটো তিনটে পর্যন্ত রাজাউযীর মেরে সাড়ে তিনটায় এসে ঘন্টা বাজাও। আর এখন জিজ্ঞেস করো দোষটা কোথায়? তোমার কি সময়ের কোনো জ্ঞান নেই? দেরিতে আসছো আসলে। তাই বলে একটা ফোন করবে না? তা না করে জানালা-দেয়াল বেয়ে ভূত পাঠিয়ে ঘন্টা বাজিয়ে গেছো।
-আচ্ছা আচ্ছা মানছি। স্বীকার করছি যে আমার দোষ আছে। কিন্তু তোমাদেরও তো বোঝা উচিত ছিল যে ঘন্টার শব্দটা আমিও করতে পারি।

চুপ করে গেলো লিন্ডো। এতো ভেবে দেখার সময় পায়নি। হোজেন চাচা আর রবিনের পাল্লায় পরে সেও উল্টাপাল্টা চিন্তা ভাবনায় পড়ে ছিল।

* * * * * * * *

ভৌতিক গবেষনা পর্ব-১৫

নাকটাকে বাংলার পাঁচের মতো ভেচকিয়ে লিন্ডো আর রবিনকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে রিঙ্কা। একদন হুবহু দেখতে দুজনে। পার্থক্য এই যে রবিনের ডান গালে একটা ছোট্ট মতো তিল আছে। তাও দূর থেকে দেখলে বোঝার মতো নয়। এখন এদের দুজনের মধ্যে পার্থক্যটা করবে কিভাবে তা বুঝে উঠতে পারছে না সে।

বর্তমানে রবিন, লিন্ডো, রিঙ্কা আর এমা ট্রি-হাউসে গোল হয়ে বসেছে। নিকি আর মিমো অনুপস্থিত। জানামতে গত রাতের ঘটনার পর বাসায় তাদের দুজনের উপর দফা জারি করা হয়েছে। তাই আজকে আসতে পারবে কি না তার ঠিক নেই।

এমা তার ফোনে তোলা কিছু কাগজ-পত্রের ছবি লিন্ডোর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো, “নতুন কোনো কিছু জানা যায়নি পুরোনো দলিল কাগজ ঘেঁটে। যা আছে সব তোমাকে আগেই বলা হয়ে গেছে আমার। তবে…”
-তবে?
-তবে একটা ইন্টারেষ্টিং বিষয় চোখে পড়েছে আমার।

বলে বাঁকা হাসলো এমা। চোখের চশমাটা নাকের কাছে ঠেলে দিয়ে বললো, “দলিলের এই অংশটি দেখো… লেখা আছে যে, বাংলোর উপর থেকে তিনটি ফ্লোর মিলার পরিবারের। তার নিচের তিনশো বায়ান্নটি ঘর অন্য একজনের।”
-হুম। এতে ইন্টারেস্টিং কি পে…. দাড়াও। বাংলোতে তো মোট তিনটি ফ্লোরই। আর তিনশো বায়ান্নটি ঘর কোথায়? তিনটি ফ্লোর মিলে চল্লিশটির মতো ঘর আছে। কম বেশিও হতে পারে, কিন্তু তিনশোটির ধারে-কাছেও নয়।

-বুঝতে পারছো তাহলে? বাংলোয় আরো ঘর আছে।
অবাক হয়ে গেলো লিন্ডো। আরো ঘর আছে? মানে আরো ফ্লোরও আছে। তার মানে গুপ্তধন। ভেবে হেসে উঠলো সে।
“কোথায় হারিয়ে যাচ্ছ?” ভাবনার রাজ্য থেকে লিন্ডোকে ফেরালো এমা।
-ও কিছু না। কিন্তু এখন আমি কি করবো?
-সেটারও সমাধান আছে। যতদূর জানি, আজ রাতে মেয়রের বাড়িতে তোমাদের দাওয়াত। ফেরার সময় যে করেই হোক মিমোকে বাংলোয় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে। পরে কি করতে হবে সেটা আমি মিমোকে বুঝিয়ে দিবো।

মাথা নাড়লো লিন্ডো। ওদিকে রিঙ্কা আর রবিনের মধ্যে বেশ জমেছে। মিল হওয়ারও কথা। দুজনেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী। রিঙ্কা জ্বলজ্বল চোখে রবিনকে তার আবিষ্কার গুলো দেখাচ্ছে। রবিনও সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। বুঝেছে যে, রিঙ্কার ইলেক্ট্রনিক আবিষ্কার গুলো চালিয়ে দেয়ার মতো হলেও কেমিস্ট্রি রিলেটেড আবিষ্কার গুলোর যাচ্ছেতাই অবস্থা।পাশে আবার উদ্ভট সব বোটানিক আবিষ্কারও রেখেছে। যেগুলোর দিকে তাকানো পর্যন্ত যাচ্ছে না। কাচের বোতলে কি সব পোকা মাকড় সাজিয়ে রেখেছে। বিজ্ঞানীদের ল্যাব এমন বিচ্ছিরি দেখতে হয় সেটা কে জানতো। মনে মনে ভাবলো রবিন। একটা মন্তব্য করতে গিয়েও করলো না। শুনেছে যে বিজ্ঞানীদের মাথা সবসময় গরম থাকে। প্ৰশংসা করতে গিয়ে কি থেকে কি বলে দিবে। শেষে নিজেই ঝামেলায় পর্বে। তার থেকে নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকাই ভালো।

“আমি এর বিচার চাই!” কোথা থেকে শোনা গেলো নিকির গলা। রবিন দর্শকের ভূমিকা পালন করায় এতটাই ব্যস্ত ছিল যে নিকির উপস্থিতিটা খেয়ালি করেনি। ঘুরে তাকিয়ে দেখে জিঞ্জার-রেড চুলের মেয়েটা গল্ ফুলিয়ে হাত পা নাড়িয়ে এমা আর লিন্ডোকে কি যেন বলার চেষ্টা করছে।

“আমি বুঝলাম না ব্যাপারটা। বুদ্ধিটা ছিল মিমোর। আমাকে দিয়ে অভিনয় করলো মিমো। ধরাও পড়লাম মিমোর ভাইয়ের কাছে। তাহলে শাস্তিটা শুধু আমি একা পাবো কেন? কেন আমাকে সাত বেলার জাগায় চার বেলা খাবার খেতে হবে যখন আমার দোষটা শুধু ঘুমানোর অভিনয় করা!” চেঁচিয়ে উঠলো নিকি।
“কিন্তু আমি তো শুনেছি ওর ওপর দফা জারি করা হয়েছে। মানে বাড়িতে ওকে বেশ চমৎকার ভাবে শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।” বললো রিঙ্কা।
চোখ কপালে তুললো নিকি। “কিসের দফা আর কিসের শাস্তি? গিয়ে দেখো ওর বাড়িতে। লনে বসে চার ভাইবোন আর মেয়র আঙ্কেল চা বিস্কুট খাচ্ছে আর দিব্বি গল্প করে যাচ্ছে। তাও আবার পার্টিতে যাচ্ছে এমন ভাব। সাহেবী সাজ সবার।”

“মিমো কি গোলাপি জামা পরে ছিল?” জিজ্ঞেস করলো এমা।
-হুম। কিন্তু সেটা তুমি কিভাবে জানলে?

চশমাটা কায়দা করে নাকের কাছে ঠেললো এমা। তারপর সাধু-মনিঋষিদের মতো করে বললো, “হু হু… আমি সব জানি বালিকা। আমার অজানা কিছুই নেই। তোমার কাছে ওই সাজ চমৎকার লাগলেও মাদ্রিওজেসের কাছে তা নির্মম শাস্তি।”
-অত প্যাচ-ঘুচ না পাকিয়ে সোজা সুজি বলতো।
-আরে এটাও জানো না? আমাদের মিমো গ্রাউন পরে থাকতে পারে না। দৌড়াতে অসুবিধা হয়। আর গোলাপি তো ওর দুই চোখের বিষ। দেখো গিয়ে নাক সিটকে বসে চা গিলছে ও।

বুঝে মাথা নাড়লো নিকি আর রিঙ্কা। না বুঝে মাথা নাড়লো লিন্ডো আর রবিন। দৌড়াতে না পারা টুকু বোঝা গেলো, কিন্তু গোলাপিতে কি সমস্যা?

Comments

Popular Posts