ভৌতিক গবেষণা পর্ব-১৬

 হিউন ল্যান্ড গ্রামের মেয়র হলো এডওয়ার্ড গঞ্জালভেস। নদীর কূল গেসে একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে থাকে সে। ক্যান্সারে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে সে সম্পূর্ণ রূপে ব্যস্ত থাকে পরোপকারিতায়। সেই জন্যই হয়তো তাকে গ্রামের মেয়র পদটা দেয়া হয়েছে। অন্তত মিমোর তাই ধারণা।

রাতে দাওয়াত উপলক্ষে চমৎকার চমৎকার সব খাবারের আয়োজন করেছে মি. গঞ্জালভেস। আয়োজন দেখে সবাই হা হয়ে গেছে। এমন সব খাবার চোখের সামনে ভাসছে যার নাম রবিন জীবনেও শোনেনি। লিওর অবশ্য কথা আলাদা। দেশের বাইরে থেকে থেকে এখন সে প্রায় সব খাবারই চেনে। তাই তার অবাক হওয়ার কারণটা হলো মিমো।

মাথা ভর্তি এলোমেলো চুল। পরনে নীল টি শার্ট। উপরে সাদা শার্ট। সাথে একটা খয়েরি স্কার্ফ আর কালো প্যান্ট। গত রাতে মিমোকে এমন অবস্থায় দেখেছিলো লিও। কিন্তু কোথায় সেই মিমো? পা পর্যন্ত লম্বা কালো চুলগুলো এখন বেনিতে বাঁধা। শার্ট-প্যান্টের জাগায় পরনে এখন ল্যাভেণ্ডার রঙের গ্রাউন। তাকে কোনো দিক থেকেই মিমো লাগছে না।

ভৌতিক গবেষণা পর্ব-১৬

লিন্ডো তো বলেই ফেললো,”তুমি যে মেয়ে সেটা আজকে তোমাকে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।”
“কেন? আমার চুল দেখে বোঝা যায়না?” শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো মিমো।

দ্বিতীয় বারের মতো অবাক হলো লিও। গত রাতে যে গলা ফাটিয়ে বেশ চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছিলো আজ সে এতো শান্ত?
-লম্বা চুল তো আজকাল ছেলেরাও রাখে। আর তোমার যে হাল দেখছি তাতে তো মনে হচ্ছে তোমাকে আর মিমো বলে ডাকা যাবে না। মাদ্রিওজেস ডাকতে হবে।
-তাহলেই হলো। আমার নাম ধরে ডাকতে ডাকতেই দিন পার হয়ে যাবে।
বলে হালকা ভাবে হাসলো মিমো।
লিওর মুখ এবার একেবারে সেদ্ধ আলুর মতো হয়ে গেলো।

লিওর অবাক হওয়া মুখ দেখে পাশে থেকে মিমোর ভাই কেভিন বললো, “অবাক হচ্ছ যে?”
“হবো না? গত রাতে যাকে দেখেছি তার সাথে তো এই মিমোর কোনো মিলই পাচ্ছি না। আচ্ছা, ও মিমোর যমজ টমজ নয়তো?” বললো লিও।
শুনে হেসে উঠলো কেভিনের পাশে বসে থাকা জেইন। “যমজ নয়… যমজ নয়। ও মিমোই। এখন শাস্তির মধ্যে আছে।
-শাস্তি? কিসের জন্য?

-গত রাতে কাউকে না বলে বাসা থেকে বের হচ্ছিলো বলে বাবা ওকে এই শাস্তি দিয়েছে। পুরো চব্বিশ ঘন্টা ওকে ওয়েস্টার্ন স্টাইল এ কাটাতে হবে।
বলে আবারো হেসে উঠো সে। লিও কিছুতেই বুঝে উঠতে পারলো না এতে শাস্তিটা কোথায়। ভাবতে ভাবতে সে তার সালাদটার দিকে হাত বাড়ালো।

খাওয়ার পর্ব শেষ করে মি. গঞ্জালভেস আর লিও দাবা খেলায় ব্যস্ত হয়েছে। মি. গঞ্জালভেসের পিছ থেকে ভুলভাল চাল দিয়ে তাকে হারানোর চেষ্টা করছে কেভিন। নিয়ন আর জেইনের সাথে গল্পে ব্যস্ত আছে রবিন। সুযোগ বুঝে লিন্ডোকে নিয়ে বাগানের উদ্দ্যেশে এক ছুট লাগলো মিমো। ভারি পোশাকের কারণে দু-তিনবার হোঁচটও খেলো সে। একবার তো লিন্ডকে নিয়েই পড়তে যাচ্ছিলো। ওয়েস্টার্ন পোশাক পড়াটা যে একটা ভয়ানক শাস্তি সেটার প্রমাণ এবার লিন্ডো স্বচক্ষে পেলো।

বাগানের বেঞ্চটায় বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো মিমো। “উফ! এভাবে জোব্বা-জুব্বি পরে কি কেউ বেঁচে থাকতে পারে?”
“এখন না পারলেও আগেরকার দিনে পারতো। ভিক্টোরিয়ান আর ব্রিটিশ রানীদের দেখোনি? তারাতো দিব্বি জীবন কাটিয়েছে।” বললো লিন্ডো।
-তারা কচি বয়সে পটলও তুলেছে।
কথাটা ঠিক। তখনকার সময়ে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মৃত্যুর হার অনেক ছিল। তাই বলে গ্রাউন পড়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে এমন তো কখনো শোনেনি লিন্ডো। কিন্তু তা নিয়ে আলাপ-আলোচনায়ও গেলো না। “এমার সাথে কথা হয়েছে তোমার?” জিজ্ঞেস করলো সে।
-হয়েছে। কি করতে হবে তাও বলে দিয়েছে। কিন্তু যাবো কিভাবে? বলে কয়ে যাওয়াটা অসম্ভব। লুকিয়ে যেতে হবে।
-তাহলে এখনই চলো। সবাই তো ওদিকে ব্যস্ত আছে।
-এখন হয়তো আছে। কিন্তু পরে যদি না থাকে? আমাদের না পেলে কেমন কেলেঙ্কারি ঘটবে তুমি জানো?

-তখন একটা কিছু বানিয়ে বলা যাবে। এখন কাজটা করা জরুরি।
-তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু বাড়িতে ঢুকবে কি করে? যতদূর জানি ওখানে হোজেন চাচা আছে।আমাদের দুজনকে দেখলে নিঃসন্দেহে সন্দেহ করবে।
-সেটাও কোনো চিন্তার বিষয় না। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে পেছনের দরোজার চাবিটা নিয়ে এসেছি।
-তাহলে তো হলোই। আর দেরি করে লাভ নেই। চলো বেরিয়ে যাই।
বলে মিমো চলে গেলো তাদের গেরাজের দিকে। কিছুক্ষনের মধ্যেই একটা সাইকেল নিয়ে উপস্থিত হলো লিন্ডোর সামনে।
“এই জোব্বা গায়েই যাবে?” জিজ্ঞেস করলো লিন্ডো।
“তা ছাড়া তো উপায় নেই। আমি মিচকে সন্ত্রাসী হলেও প্রাপ্প শাস্তিকে কখনোই অবহেলা করি না।” গর্বের সাথে জানালো মিমো।
কি বলবে বুঝতে পারলোনা লিন্ডো। মাথায় হেলমেট পরে চড়ে বসলো মিমোর পিছে। মুহূর্তের মধ্যেই অন্ধকার রাস্তায় মিলিয়ে গেলো সাইকেলটা।

দুজন চলে যাওয়ার পর একটা লম্বা নিশ্বাস নিলো জেইন। “যেতে দিলে?” জিজ্ঞেস করলো রবিন।
-দিলাম।
-কেন? দেখলেই তো যে ওরা না বলে বাংলোয় যাচ্ছে। এখন যদি বিপদে পরে? যদি ভূতের খপ্পরে পরে দুজনে?
-চিন্তা করো না। আমাদের মিমো সন্ত্রাসী ভূতেদের থেকেও মারাত্মক।
-তা ঠিক বলেছো। গত রাতে যা দেখিয়েছে তাতে আমি সিওর যে ও মানুষ নয়।
-তাহলে তো বুঝতেই পারছো আমি কি বলটা চাচ্ছি। এখন চলো তোমাকে আমার লেখা নতুন গানটা গেয়ে শোনাই।

Comments

Popular Posts