ভৌতিক গবেষণা পর্ব-৩
হোজেন আর জনার্দনের ঘরের দরজা হা করে খোলা। ভেতরে কেউ আছে বলে মনে হচ্ছে না। তাও নিশ্চিত হওয়ার জন্য লিন্ডো ডাকলো ,”আঙ্কেল জন। হোজেন চাচা। তোমরা কি ঘরে আছো?”
কোনো সাড়া পাওয়া গেলোনা। রবিন নিচু স্বরে বললো,”ডেকে লাভ নেই লিন্ডো। তারা আর এই দুনিয়ায় নেই। ভূতে ভেনিস করে দিয়েছে।”
“চুপ করো তো! ভূতে ভেনিস করে দিয়েছে। বললেই হলো নাকি?” মুখ বাকিয়ে বললো লিন্ডো।
-ঘরে যে নেই তা তো বোঝাই যাচ্ছে।
-নিচে আছে নিশ্চই। চলো দেখে আসি।
-না, না, না….
বাধা দিলো রবিন। বললো,”তোমার সাথে আর এক পা ও যাবো না। তখন তুড়ি বাজিয়ে হেসেছো। এরপর কি বা কাকে বাজিয়ে হাসবে তার ঠিক নেই।”
তারপর জানালার পাশে রাখা খাটটায় পা উঠিয়ে বসে বললো,”এই আমি বসলাম। তুমি আঙ্কেলদের খুঁজে পেলে এখানে পাঠিয়ে দিও।”
-এক থাকতে পারবে?
-পারবো।
-তাহলে থাকো তুমি, আমি গেলাম নিচে।
রবিন মাথা নাড়লো। ঘরের দরজা চাপিয়ে দিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেলো লিন্ডো।
পুরো বাড়িটা অন্ধকার। কোথায় কি আছে বোঝার কোনো উপায় নেই। “কালকেই বাল্প গুলো বদলাতে হবে।” মনে মনে ঠিক করলো লিন্ডো। রেলিং ধরে নামতে নামতে সে আবার ভাবনায় ডুবে গেলো। এবার পরিকল্পনার বিষয়, মিশরে গিয়ে কিভাবে কি করবে।
কিন্তু এবারও তার কল্পনাই বাধা ঘটলো। তাকে বাস্তবে ফেরালো একটা গোঙানির শব্দ। কে যেন গোঙাচ্ছে। লিন্ডো থেমে দাঁড়ালো। গলা নামিলে জিজ্ঞেস করলো,”কেউ কি আছে ওখানে?”
গোঙানি থেমে গেলো। অন্ধকারের মাঝেই দেখা গেলো কে যেন ঘড়ের ডান দিক থেকে মাঝখানের দিকে সরে আসছে।আবার শোনা যাচ্ছে সেই খসখস শব্দ।
“মানুষ? মনে তো হচ্ছেনা। কিন্তু অমন আকৃতির কোনো প্রাণীও তো আমার চেনা নেই। তাহলে কি ওটা?” ভাবলো লিন্ডো। কৌতূহলী চোখে সিঁড়ি পার হয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলো কি ঠিক তখনি গোটা আকাশ যেন তার পিঠের উপর ভেঙ্গে পড়লো।
“ও… মা…গো…” চেঁচিয়ে উঠে সে হুমড়ি খেয়ে পড়লো সোফার উপর।
“এই কে? কে লাথি মারলো? অসভ্য কোথাকার! বলা নেই কোয়া নেই, হুট্ করে লাথি হাঁকিয়ে দিলো?!” উঠে বসলো লিন্ডো। পিঠটা ব্যথায় টনটন করছে। চোখের কোনা দিয়ে দেখলো একটা বড় কালো ছায়া খোলা ঢাউস দরজা দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। সময় নষ্ট করলোনা সে। পায়ের স্যান্ডেল জোড়া হাতে তুলে নিয়ে দিলো ছুটে।
স্যান্ডেল জোড়া আবার পায়ে পরে নিলো লিন্ডো। একটু আগেও ছায়াটা সামনেই ছিল। বাংলোর পেছনের দিকে এসেই গায়েব হয়ে গেলো।
“গেলো কথায়? সামনেই তো ছিল। উড়ে গেলো নাকি?” হাপিয়ে উঠেছে লিন্ডো। অনেক্ষন ধরেই দৌড়াচ্ছে সে। কোমরে হাত দিয়ে এদিক সেদিক দেখলো। বাংলোর পিছের দিকটা বেশ সুন্দর। বিভিন্ন ফল আর ফুলের বাগান, ছোট ছোট ঘাসে ভরা আঙ্গিনা, একটা বাঁধানো পুকুর, তার পাশে ছাউনি। চোখ কুঁচকে তাকালো লিন্ডো। দুটো ছাইয়া দেখা যাচ্ছে ছাউনির নিচে। লিন্ডো স্যান্ডেল জোড়া আবার হাতে তুলে নিলো। তারপর পা টিপে টিপে এগিয়ে গেলো ছাউনির দিলে।
ভেবেছিলো চোর দুটোকে ধরে ফেলেছে। কিন্তু কাছে যাওয়ার পর সে অনেকটা হতাশই হতে হলো তাকে।
Comments
Post a Comment