ভৌতিক গবেষণা পর্ব-৪
এদিকে জনার্দন আর হোজেনের মধ্যে চলছে বিছানা নিয়ে তুমুল ঝগড়া। ঝগড়ার শুরুটা হয়েছিল তাদের ঘর থেকেই। কিন্তু লিন্ডো আর রবিনের ঘুম যাতে ভেঙ্গে না যায় তার জন্য ঐ স্বল্প অগ্নিকাণ্ডটা এখন পুকুর পাড়ে চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
হোজেন কোমরে হাত রেখে বলল,”আমি ডান পাশের বিছানায় শুতে পারবোনা। ওই বিছানা আমার পছন্দ নয়। আর আমি সবসময় বাম পাশে শুয়েছি। আজকেও শুবো।”
“ইশ! বললেই হলো? আমিও ছাড়বোনা বাম পাশ। জানালার পাশে আমি ঘুমাতে পারবোনা।” হাত পেঁচিয়ে বললো জনার্দন।
-কেন? জানালার কি দোষ? জানালা কি তোমাকে মারবে, না সুড়সুড়ি দিবে?
-দোষ জানালার না,ডিউকের। জানালার পাশে শুলে যদি ডিউকের আত্মা আমাকে উড়াল দিয়ে নিয়ে যাই? তখন কোথায় পাবে এই জনার্দন হার্কারকে?
-এতই যখন ভয় তখন বিছানার সাথে নিজেকে বেঁধে নিলেই পারো। উড়িয়ে নেয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকবেনা।
-বাহ্! কি সুন্দর সমাধান! বেঁধে নিলেই পারো। তারপর আমি নড়বো চড়বো কিভাবে? কল্পনাই?
তাদের এই অস্বাভাবিক ও অমূলক তর্কের বিরাম ঘটালো লিন্ডো। হোজেন আর জনার্দন পিছে ঘুরে দেখে শুঁটকি মতো ছেলেটা দুহাতে স্যান্ডেল তুলে নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে তাকিয়ে আছে। স্যান্ডেল জোড়া আবার সে পায়ে ঢুকিয়ে নিয়ে বললো,”তোমরা এখানে কুকুর বিড়ালের মতো ঝগড়া করছো, আর ওদিকে চোর এসে ভয় দেখিয়ে উৎসব পালন করছে।”
“চোর? এই ভূতের বাড়িতে?” অবাক হলো হোজেন।
-হুম। নিশ্চই বাড়ির গুপ্তধন চুরি করতে এসেছে। এখানে লোক আছে দেখে ভয় দেখিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করছে।
“রবিন কোথায়?” জিজ্ঞেস করলো জনার্দন।
-ভয় লাগছিলো ওর। তাই ওকে আমি তোমাদের ঘরে রেখে এসেছি।
“তুমি দেখেছো চোরটাকে?” হোজেনের প্রশ্ন।
-শুধু কি দেখেছি? দেখার পর একটা রাম লাথিও খেয়েছি পিঠে।
ব্যথার জাগাটায় হাত বুলিয়ে লিন্ডো বুঝিয়ে দিলো যে লাথিটা বেশ জোরালো ছিল।
-দেখেছ কান্ড! আমার নাকের নিচ দিয়ে বাড়িতে চোর ঢুকে গেলো আর আমি টেরও পেলামনা!
“তুমি যদি তখন জানালার পাশে শোবার জন্য রাজি হতে তাহলে চোরটা ঢুকতে পারতোনা।” হোজেনকে খোটা দিয়ে বললো জনার্দন।
-সে কাজটা তো তুমিও করতে পারতে জনার্দন মিয়া।
-আমি জা…
“কে কোন পাশে শুবে সেটা পরে দেখা যাবে।” আবারো তাদের ঝগড়া থামালো লিন্ডো। স্যান্ডেল জোড়া পুনরায় হাতে তুলে নিয়ে বললো, “আগে চলো চোরটাকে ধরে আচ্ছামতো পিটিয়ে আসি।”
হোজেন আর জনার্দন মাথা নেড়ে মাটিতে পরে শুকনো দুটি ডাল তুলে নিলো। তারপর বেরিয়ে গেলো তিনজন তিনদিকে।”
মূল গেটের পাশের ঝোপ গুলো লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখছে জনার্দন। চোররা সাধারণত এইসব জায়গায়ই লুকিয়ে থাকে।
“ব্যাটা চোর। অমন হেংলা পাতলা ছেলেকে কেউ লাথি মারে? ওকে দেখলেই তো মায়া হওয়া উচিৎ। একবার হাতে পাই, তারপর বুঝিয়ে দিবো লাথি কোথায়, কিভাবে এবং কেমন করে মারতে হয়।” বিড়বিড় করতে লাগলো জনার্দন। লিন্ডোকে লাথি মারা বিষয়টা একদমই পছন্দ হয়নি তার।
“কিন্তু যাকে লিন্ডো দেখেছে সে যদি মানুষ না হয় তখন? ডিউকের আত্মাও তো হতে পারে। আচ্ছা, লাথিটা যদি মৃত ডিউক মেরে থাকে তাহলে?” ভেবে গা কেঁপে উঠলো জনার্দনের। এমনিতেই এক ভয় লাগছিলো। ডিউকের কথা মনে করে ভয়টা দ্বিগুন হলো।
“ওরা দুজন খুঁজুক বাবা। আমি রবিনের সাথে বসি গিয়ে। কোন মনীষি জানি বলে গিয়েছে যে ভীতুদের বিপদে একসাথে থাকতে হয়।” সত্যি কি না জনার্দনের জানা নেই। কিন্তু বর্তমানে তার এই উপদেশটাই চমৎকার লাগছে। তাই সে দেরি না করে এদিক ওদিক তাকিয়ে হাঁটা দিলো বাড়ির দিকে।
মূল দরোজার সামনে এসে আঁতকে উঠলে জনার্দন। দরোজার সামনে কে যেন উবু হয়ে শুয়ে আছে। জীবিত না মৃত বোঝা যাচ্ছে না।
কে মারলো? কাকে মারলো? কিভাবে মারলো? জনার্দনের মাথা কাজ করছে না। মনের অজান্তে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে লাগলো সে।
Comments
Post a Comment