ভৌতিক গবেষণা পর্ব-১৩

 অনেক্ষন ধরেই লিও দরোজায় শব্দ করে যাচ্ছে। কিন্তু ভেতরে কারো কোনো সাড়া শব্দ নেই। বেশ চিন্তায় পড়ে গেছে সে। ঘুমিয়ে থাকলেও রবিনের ঘুম খুব হালকা। একটু শব্দেই ওর ঘুম ভেঙে যায়। তাছাড়া হোজেনেরও জেগে থাকার কথা ছিল। তাহলে কেউ দরজা খুলছে না কেনো? কিছু হয়েছে নাকি ওদের?

“এখনো বাইরে যে? কেউ খুলছে না নাকি?” পেছন থেকে বললো নিয়ন।

ঘুরে তাকালো লিও। তার পিছে নিয়ন আর তার বোন মিমি না মিমো দাঁড়ান। সাথে অন্য একটি মেয়ে।
এই সেই নিখোঁজ মেয়ে বুঝতে পেরে লিও বললো, “ওহ, তোমার বন্ধুকে পাওয়া গেছে তাহলে?”
“হুম। অনেক কষ্টে।” উত্তরে বললো মিমো।
-তা কোথায় পেলে তাকে?
-আর বলো না! এদিকে আমরা গরু খোঁজা খুঁজছিলাম আর ওদিকে সে গাছের নিচে ঘুমাচ্ছিলো।

শুনে হাসলো লিও। তারপর মিমোর কানের কাছে এসে গলা নামিয়ে বললো, “বেশ চমৎকার অভিনয় করতে পারো তুমি। চালিয়ে যাও। ভবিষতে কাজে লাগতে পারে।”
শুনে চমকে উঠলো মিমো। ধরা পরে গেছে। এই লম্বুটা বুজলো কিভাবে? চোখের কোন দিয়ে একবার নিয়নকে দেখে নিলো। না, শুনতে পারে নি কিছু। তারপর কথা ঘোরানোর জন্য বললো, “নিকির কথা না হয় পরে হবে। এখন তোমার বাংলোয় ঢোকার কথা ভাবা উচিৎ।”

মাথা নাড়লো নিয়ন। “ঠিক। তুমি কিন্তু আবার বেখেয়ালি হয়ে যাচ্ছ লিও।”
মাথা চুলকে হাসলো লিও। “আমি বুঝতে পারছি না যে কেউ দরজা খুলছে না কেন? কারো ঘুম কি এতো গভীর হয় যে বেলের শব্দ শুনতে পারবে না?”

ফিক করে হেসে দিলো নিকি। “বেল বাজবে কি করে? ইলিক্ট্রিসিটিই তো নেই।” বললো সে।

ভৌতিক গবেষণা পর্ব-১৩

বোকা বোনে গেলো লিও। বাড়ির সব আলো যে বন্ধ সেটা তো খেয়ালই করেনি। বাংলার পাঁচের মতো মুখ করে নিকিরে দিকে তাকিয়ে থাকলো সে। এবার নিয়ন আমার মিমোও হেসে উঠলো। “এখন তাহলে জানাবো কি করে যে আমি এসেছি?” লিওর প্রশ্ন।
“দরোজার কড়া নেড়ে দেখতে…” বললো নিয়ন।
তাকে বাধা দিলো নিকি, “কড়া নাড়তে হবে না। দরোজার ডান পাশে ঝোলানো দড়িটা ধরে টানলেই হবে। যতদূর জানি ওটা একটা ঘন্টার সাথে জুড়ে দেয়া আছে।”

দরোজার ডান পাশে আসলেই দড়ি পাওয়া গেলো। কিন্তু টানাটা হলো খুবই কষ্টের। লিও এক না পারায় নিয়নকেও হাত লাগাতে হলো। ঘন্টা বাজলো ঠিকই। কিন্তু শব্দটা নিকির তেমন পছন্দ হলো না। ভেবেছিলো চার্চে বিয়ে হলে যেমন ঘন্টার শব্দ হয়ে তেমন হবে। কিন্তু যা হলো তাকে বিয়ের ঘন্টা না বলে ডেভিল কল বললে বেশ চালিয়ে দেয়া যাবে।

দুই তিন বার ঘন্টা বাজানো হলো। এবার কোনো সাড়া শব্দ নেই। লিওর চিন্তা আরো বেড়ে গেছে। “খুলছে না কেন? এতো গভীর ঘুম তো লিন্ডোর ও না। কানে তুলো গুঁজে ঘুমাচ্ছে নাকি সবই? নাকি আসলেই কিছু একটা হয়েছে?” বললো সে।
লিওকে সাহস দেয়ার জন্য নিয়ন বললো, “তুমি অযথা চিন্তা করছে। নিশ্চই কোনো কারণ আছে না খোলার….”
আবারো বাধা দিলো নিকি। বললো, “চিন্তার তো বিষয় আছেই। এই বাংলোটার ভুতুড়ে বলে বদনাম আছে। এই মাঝ রাতে যেকোনো কিছু হতে পারে।” বলে বাঁকা হাসলো সে।

বাড়াবাড়ি হচ্ছে দেখে এক গাট্টায় নিকিকে থামালো মিমো, “কি যা-তা বলছো? ভূত টুত কিচ্ছু না। থাকলেও যা আছে তা হলো ছিঁচকে চোর আর ডাকাত।”
মিমোর কোথায় কোনো কাজ হয়েছে বলে মনে হলো না। নিকির কথা শুনে লিওর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
“এ কেমন লয়ার রে বাবা? আমার অভিনয় ধরতে পারে কিন্তু এই চোরাই কারবাড়িটা ধরতে পারে না!” নিজ মনে ভাবে অবাক হলো মিমো।

নিকি মিমোর কানের কাছে মাথা এনে বললো, “ফার্স্ট ফ্লোরের বাম দিক থেকে তিন নম্বর ঘরের জানালাটা খোলা। হালকা আলোও দেখা যাচ্ছে। দেখবে নাকি উঠে?”
“চেষ্টা করা যাই। দাড়াও বো-কে বলে দেখি।” উত্তরে বললো মিমো।

-বো।
-হুম?
লিও আর নিয়ন দুজনেই ঘুরে তাকালো মিমোর দিকে।
-বলছি যে, দোতালার মাঝখানের ঘরটায় আলো জ্বলছে।
-জ্বলছে নাকি?
মাথা উঁচিয়ে দেখলো দুই বন্ধু। আসলেই আলো দেখা যাচ্ছে। আবছা আলো। বোঝা যাচ্ছে যে সবাই ওই ঘরে আছে।

“ঢিল ছুড়ে দেখবো কেউ আছে কি না?” জিজ্ঞেস করলো মিমো।
“সেটা করা ঠিক হবে না। করে মাথায় লাগার স্বভাবনা আছে।” বললো লিও।
তাকে শুধরে দিয়ে নিকি বললো, “মাথায় কেন? শরীরের যেকোনো অংশে লাগার সম্ভাবনা আছে।”

হাত তুরে আবারও একটা উপায় বাদরে দিলো মিমো। ঝুঁকিতে ভরা উপায় যেটা নিয়নের একদমই পছন্দ হলো না। কিন্তু তার কথা শোনার মতো কোনো লক্ষনই দেখালো না বাকি তিনজন। নিয়নকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে কাজে নেমে পরলোনিকি আর মিমো।
“যাচ্ছ যায়। শেষে যদি হাত পা ভাঙ্গে তাহলে কিন্তু খবর আছে।” শেষে এটুকুই বলতে পারলো নিয়ন।

Comments

Popular Posts