ভৌতিক গবেষণা পর্ব-৫
লিন্ডো চলে যাওয়ার পর রবিন একটা কাঁথা নিয়ে নিজেকে পেঁচিয়ে নিয়েছে। খুব করে বলেছে যে একা থাকতে পারবে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে যে সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। ভয়ে সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে তার। ফোনটাও আনেনি। নাহলে গান শুনে সময় পার করতে পারতো। বিছানার সব কাঁথা বালিশ নিয়ে নিজেকে ঘিরে ফেললো সে। জানে তার মতো ষোলো বছর বয়সী একজন ছেলের জন্য এমন ছেলেমানুষি কাজ করাটা বেমানান। কিন্তু ভয়টাও তো কাটাতে হবে।
“কেও দেখলে বেপারটা বড়োই লজ্জার বিষয় হবে। কিন্তু বাড়ি তো এখন ফাঁকা। আমাকে দেখছে টা কে?” ভাবলো রবিন। কিন্তু আসলেই কি তাকে কেও দেখছেনা?
গায়ের কাঁথাটা আরো শক্ত করে পেঁচিয়ে নিলো রবিন। ভূত টুত আসলে এই কাঁথাটা অন্তত বাঁচাবে তাকে।
ভূতের ভয় রবিনের সেই ছোটবেলা থেকেই। হোস্টেলে থাকতে এই ভয় নিয়ে তাকে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। একবার তো একটা পাজি ছেলে ভয় দেখিয়ে জ্বরই উঠিয়ে দিয়েছিলো তার। পরে অবশ্য পাজিটাকে আচ্ছামতো ধোলাই দিয়েছিলো লিন্ডো। আর লিও জানার পর তো অবস্থা আরো খারাপ। পারলে ছেলেটাকে স্বপরিবারে পুলিশে দেয়।
হাসলো রবিন। সে বাইরে যতই ছাগল-ভেড়া ডাকুক, ভেতরে ভেতরে তার দুই ভাই অনেক ভালোবাসে।
তবে লিন্ডোর সাহস আছে সেটা রবিনের মন্তেই হবে। তা না হলে এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে মানুষ কেন, ভুতেরাই চলার সাহস পায়না।
কথাটা কেমন যেন লাগলো রবিনের। ভূতেদের আবার কিসের ভয়? ভূতেরাই ভয়ের মূল কারণ। অনলাইনে ভূত নিয়ে অনেক কিছু পড়েছে সে। সব জাগায় স্পষ্ট লেখা, মানুষ ভূতেদের ভয় পায়। কিন্তু ভূতেদের ভয় দেখানোর ওপর কোনো ডকুমেন্টরি ইন্টারনেটে নেই। আচ্ছা? ভূতেরা কী দেখে ভয় পায়?
তার ভৌতিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ব্যাঘাত ঘটলো। আবার সেই পায়ের শব্দ। খসখস খসখস। আঁতকে উঠে এদিক ওদিক তাকালো রবিন। এ কি? দরজাটা খোলা কেন? লিন্ডো তো যাওয়ার আগে চাপিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো। খুললো টা কে? রবিন মনে সাহস যোগালো। তারপর কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলো, “কে… কে ওখানে?”
থেমে গেলো পায়ের শব্দ। কিছুক্ষন পর আবার শুরু হলো। এবার যেন তার দিকেই লক্ষ্য করে আসছে। গলা শুকিয়ে গেলো রবিনের। তার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে এটা ভুতের কান্ড। বালিশ গুলো দ্রুত হাতে কাছে টেনে এনে সে ডুব দিলো কাঁথার নিচে।
এবার কি হবে? দরজাটাও খোলা। নেমে লাগিয়ে দিয়ে আসবে নাকি? যদি লাগানোর আগেই ঘরে ঢুকে তাকে ধরে ফেলে? তার ওপর বিছানা থেকে পা নামানোর মানসিক অবস্থায় তার নেই।
আবার থেমে গেলো শব্দ। একেবারে পিন ড্রপ সাইলেন্স। চলে গেলো নাকি ভূতটা? নিশ্চিত হওয়ার জন্য উঁকি দিলো রবিন। নিঃশাস বন্ধ হয়ে গেলো তার। শব্দ এখন আর নেই। তবে যা আছে তা হাড় কাঁপিয়ে দেয়ার মতো।
বিছানার পায়ের দিকে কেউ একজন আছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। দাঁড়িয়ে না বসে আছে তা বোঝা যাচ্ছেনা। বোঝার সময়ও নেই রবিনের। সে এখন গলা ফাঁটিয়ে চেঁচানোয় ব্যাস্ত। চেঁচিয়ে এক লাফে বিছানার বাইরে, দুই লাফে ঘরের বাইরে। তারপর তাকে আর দেখে কে? ম্যারাথন জেতানো দৌড়ে সে বাড়ির বাইরে চলে গেলো। মূল দরজা পার হতেই মাথাটা যেন ঘুরে উঠলো রবিনের। জ্ঞান হারালো সে।
Comments
Post a Comment